গোপনে ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন

Home Page » প্রথমপাতা » গোপনে ২০০ রুশ সেনাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে চীন
বুধবার ● ২০ মে ২০২৬


চীন নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ বলে দাবি করে এলেও এবার উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। তিনটি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা গোপন নথি বলছে, চীনের সশস্ত্র বাহিনী গত বছরের শেষ দিকে গোপনে প্রায় ২০০ রুশ সেনাকে বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যে ইউক্রেনের রণক্ষেত্রে ফিরে গেছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা একটি রুশ-চীনা দ্বিপাক্ষিক চুক্তিপত্র অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুলাই মাসে বেইজিংয়ে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে এই প্রশিক্ষণ চুক্তি সই হয়। চুক্তিতে বেইজিং ও নানজিংসহ বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে রুশ সেনাদের ড্রোনের ব্যবহার, ড্রোনবিধ্বংসী ব্যবস্থা, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং সাঁজোয়া পদাতিক বাহিনীর কৌশলগত প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিনিময়ে শত শত চীনা সেনারও রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা ছিল।
চুক্তিতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছিল এই সফরের বিষয়ে কোনো গণমাধ্যম প্রচার বা তৃতীয় পক্ষকে তথ্য জানানো।

রয়টার্সের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ রুশ সামরিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত ছিল লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে ড্রোনের ব্যবহার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার রাইফেল দিয়ে শত্রু ড্রোন ভূপাতিত করা এবং নেট ছুড়ে ড্রোন আটকানো। এ ছাড়া নানজিংয়ের মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে মাইন স্থাপন ও নিষ্ক্রিয়করণের ওপরও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে চীনের বিশাল জ্ঞান ভান্ডার এবং উন্নত ফ্লাইট সিমুলেটর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি রুশ সেনাদের নতুন কৌশল আয়ত্তে বড় সহায়তা করেছে।

চীনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রুশ সেনাদের বড় অংশই ছিলেন উচ্চপদস্থ সামরিক প্রশিক্ষক, যারা দেশে ফিরে এই জ্ঞান অন্য সেনাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন। ডনবাস ও জাপোরিঝিয়ার মতো অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চলে ড্রোনসহ প্রত্যক্ষ যুদ্ধে অংশ নেওয়া বেশ কয়েকজন রুশ কর্মকর্তার পরিচয়ও নিশ্চিত করেছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা — যাদের পদমর্যাদা জুনিয়র সার্জেন্ট থেকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পর্যন্ত।

রাশিয়া ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইউক্রেন সংকটে বেইজিং সবসময় নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
এই তথ্য এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পের বেইজিং সফরের ঠিক পরেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স

বাংলাদেশ সময়: ১১:১৪:২৪ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ