জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষার বাস্তবতা

Home Page » ফিচার » জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ও ইংরেজি শিক্ষার বাস্তবতা
বুধবার ● ২০ মে ২০২৬


—

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভর্তি কার্যক্রম শুরুর নোটিশ ইতিমধ্যে প্রকাশ করেছে এবং একই সাথে ২০২৪-২৫ সালে অনার্স প্রথম বর্ষের ফরম ফিলাপ করার নোটিশও প্রকাশ করেছে।

গতবছর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করেছিল ৫,৫০,০০০ এরমধ্যে অনার্সে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে  ৪,৩৬,২৮৫ জন। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এবং দক্ষ জনশক্তি গড়তে জাবি  ২০২৪-২৫ সেশনে আইসিটি এবং ইংরেজি বাধ্যতামূলক কোর্স হিসেবে চালু করে। যেহেতু আইসিটি ও ইংরেজি কোর্স বাধ্যতামূলক তার মানে সেসকল কোর্সে বেশি গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হবে। আইসিটির ল্যাব থাকবে, নির্দিষ্ট শিক্ষক থাকবেন আর ইংরেজি শিখতে হলে সেটারও বাস্তব উপযোগী প্রদক্ষেপ থাকবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নামে মাত্র কোর্স চালু করে দক্ষতা অর্জন করা যায় না, দক্ষ জনশক্তি গড়া যায় না বরং বাধ্যতামূলক কোর্স বলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে, আগে যেখানে প্রথম বর্ষে বিষয়ভিত্তিক কোর্স নিয়ে প্রথম বর্ষে আলোচনা থাকতো শিক্ষার্থীরা নুন্যতম অর্থে হলেও পড়তো বর্তমানে ইংরেজি ও আইসিটিতে পরীক্ষায় পাস করার উদ্দেশ্য অনেকেই প্রাইভেট পড়ছে। কাজের কোন কাজ হয় নাই। কেননা, উচ্চ মাধ্যমিকেও আইসিটি কোর্স আছে কিন্তু সেটা প্র্যাক্টিকেলি করার কোন ব্যবস্থা না থাকায় দেখা যায় শিক্ষার্থী কোর্স করছে, পরীক্ষা পাস করছে তবুও সে বিষয়ে তার দক্ষতা নাই। একই প্রক্রিয়ায় অনার্সেও আইসিটি কোর্স  রাখলে কি দক্ষ হওয়া যাবে? শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে? হবে না।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হলো কি না তারচেয়ে বড় কথা মুখরোচক কথার আড়ালে আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে যা শিক্ষা বাণিজ্যের নগ্ন প্রকাশ । ২৪-২৫ সেশনে ৪,৩৬,২৮৫ শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া আইসিটি আর ইংরেজি কোর্সের ফি হিসেব করলেই বিষয়টা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্স ফি নির্ধারণ করেছে ৩০০ টাকা এ হিসেবে শুধু আইসিটি ও ইংরেজি কোর্সে মোট ফি ৩০০×২=৬০০ টাকা। এখানে, ৪,৩৬,২৮৫ × ৬০০= ২৬,১৭,৭১০০০ হাজার টাকা পায়! অর্থাৎ নতুন করে বাধ্যতামূলক কোর্স দুটি থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কতটুকু পেলো তারচেয়ে আর্থিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাবনা একটু বেশিই বলে মনে হয় । সামগ্রিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজন না রেখে যেখানে সেখানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স কোর্স চালু করা মূলত তাদের ব্যবসাকে ত্বরান্বিত করাই। অবিলম্বে, আয়োজনবিহীন আইসিটি ও ইংরেজি কোর্স বন্ধ করে বরং পরিপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যম কোর্সগুলো চালু করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হোক।

লেখা - রাজিব সুত্রধর, শিক্ষার্থী , জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। 

বাংলাদেশ সময়: ১২:১৪:৩২ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ