
বহুল আলোচিত সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিধান অবৈধ ঘোষণার হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান পুনর্বহালের পথ আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলগুলো খারিজ করে সর্বোচ্চ আদালত এই সিদ্ধান্ত দেন।
এর আগে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিলের ওপর টানা তিন দিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য ৯ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর পৃথক দুটি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি ধারা অসাংবিধানিক ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ সংশোধনীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বাতিল করা হয়।
হাইকোর্টের ওই রায়ের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের সম্ভাবনা তৈরি হলেও কয়েকটি আইনি জটিলতার বিষয় সামনে আসে। এরপর পৃথকভাবে তিনটি আপিল দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি আপিল করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদকসহ চার ব্যক্তি। এছাড়া নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও পৃথক আপিল করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করে। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয় এবং সংবিধানের মোট ৫৪টি ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
আপিল বিভাগের সর্বশেষ এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল থাকায় দেশের নির্বাচনব্যবস্থা ও সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর এর বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।