জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ৫ মন্ত্রীসহ ৭ সদস্যের কমিটি গঠন

Home Page » অর্থ ও বানিজ্য » জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ৫ মন্ত্রীসহ ৭ সদস্যের কমিটি গঠন
সোমবার ● ১০ আগস্ট ২০২৬


প্রতীকী ছবি-লোগো, বাংলাদেশ সরকার  বঙ্গনিউজ: জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন-২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ দিতে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটিতে পাঁচজন মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন।

সম্প্রতি এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এতে বলা হয়েছে, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের প্রতিবেদন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করাই হবে কমিটির প্রধান দায়িত্ব। প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে।

কমিটির সদস্যরা হলেন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রয়োজন বিবেচনায় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা দেবে অর্থ বিভাগ।

এর আগে ২১ এপ্রিল নবম পে-স্কেল পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য ১০ সদস্যের একটি কমিটি পুনর্গঠন করেছিল সরকার। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন ওই কমিটি ‘সচিব কমিটি’ হিসেবে পরিচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কমিশনগুলোর সুপারিশ পর্যালোচনা করে শিগগিরই সরকারের কাছে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নবম জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল।

নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে বলে অর্থ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, এলএনজি ও এলপিজির বাড়তি আমদানি ব্যয় এবং ডিজেলে ভর্তুকির কারণে সরকারের ব্যয় ইতোমধ্যে বেড়েছে।

এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের ধীরগতি ও ডলারের বিনিময়মূল্য বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। ফলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে।

তবে এসব চাপের মধ্যেও নবম পে-স্কেলের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানান, নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।

আইএমএফের ঋণের সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। তার ভাষ্য, পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রজ্ঞাপন জারিতেও বেশি সময় লাগবে না।

অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর সুপারিশ জমা দেয় নবম জাতীয় বেতন কমিশন। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদের বাজেট অধিবেশনেও বক্তব্য দিয়েছেন। তবে এখনো নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

বাংলাদেশ সময়: ৬:৪২:৫৩ ● ৪১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ