
বঙ্গনিউজ । ড সাবের শাহ, কান্ট্রি হেড ইউকে
লন্ডন, ২৬ অক্টোবর ২০২৬: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও আত্মার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন ইন দা ইউকে (জাহাঙ্গীরনগর জুয়াক)-এর উদ্যোগে গত ২৫ অক্টোবর, রবিবার, ডেগেনহামের ফেশওয়ে কমিউনিটি সেন্টারে এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাণবন্ত এ আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় জাহাঙ্গীরনগর পরিবারের এক আনন্দঘন পুনর্মিলনে।

বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুয়াকের সভাপতি রানা ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিব আলম চৌধুরী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহবুবা জেবিন ও জান্নাতুন নেসা চয়ন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শক-অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল ছিল উৎসবমুখর। রাত ১০টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ছিল সংগীত, স্মৃতিচারণ, শুভেচ্ছা বিনিময়, নৈশভোজ এবং নানা আকর্ষণীয় পর্ব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়েস্টমিনিস্টার কাউন্সিলের কাউন্সিলর শামসেদ চৌধুরী। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলর আবদুল হালিম, বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ইউকের সভাপতি শাকির হুসেইন, এনআরবি মিডিয়ার চ্যানেল হেড ওলিউর রহমানসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মনোরম সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত পরিবেশন করেন আলিম আল রাজি, মাহবুবা জেবিন ও জলি আক্তার। পাশাপাশি ছোট্ট শিল্পী আরওয়ার পরিবেশনাও উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। তবে পুরো আয়োজনের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন সংগীতশিল্পী প্রীতম সাহা, যাঁর পরিবেশনা অনুষ্ঠানে বাড়তি উচ্ছ্বাস ও আনন্দের মাত্রা যোগ করে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন, বিশ্ববিদ্যালয় এর ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন কমিটির আহবায়ক জহিরউদ্দিন , সাবেক সভাপতি মোঃ শহিদ ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আলিম আল রাজী, সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াকারুল আমিন রনি , সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মাতিন , ড আসমা পারভীন মুক্তা, নাসিমা চৌধুরী, সিকান্দার আলী সিকো , আশরাফুল আলম , নিয়াজ উদ্দিন, জুলফিকার আলী ভুট্টো, আনিস রহমান, মুকিত শামস জয়, ফারজানা ইয়াসমিন চমন, ফারহানা খান একা, আনিকা হক, ইফতেখার ইফতি , বুলবুল আহমেদ সহ আরও অনেকে। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তুলে ধরেন এবং প্রবাসে বসবাসরত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় বক্তারা জুয়াকের এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
মিলনমেলার আরেকটি আকর্ষণীয় পর্ব ছিল র্যাফেল ড্র। তিনটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রধান অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। এ পর্বে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ দেখা যায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় নৈশভোজের আয়োজন। পাশাপাশি অতিথিদের জন্য ছিল চা, নাশতাসহ নানা আপ্যায়নের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিন পর সহপাঠী, সিনিয়র-জুনিয়র এবং পরিচিতজনদের একসঙ্গে পেয়ে উপস্থিত সবার মধ্যে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিকের ব্যাচ থেকে শুরু করে ৪৭তম ব্যাচ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রজন্মের পর প্রজন্মের এক মিলনমঞ্চ।
আয়োজকদের মতে, জুয়াকের এ মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসে বসবাসরত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্ধুত্ব, ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং পারিবারিক আবহ সেই উদ্দেশ্যকে সফলভাবে প্রতিফলিত করেছে।
সার্বিকভাবে, আনন্দ, আবেগ, স্মৃতিচারণ ও সম্প্রীতির এক অনন্য সমন্বয়ে জুয়াকের এ মিলনমেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। উপস্থিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিরচেনা আত্মার বন্ধন প্রবাসেও অটুট থাকে।