বঙ্গনিউজ: দেশে শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশে অন্তত ১১৮ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২১ মে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
আসক মনে করে, এই ধরনের ঘটনাগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয় বরং এগুলো রাষ্ট্রের সুরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার এক বৃহত্তর সংকটকে প্রতিফলিত করছে। দেশের সংবিধানের ২৮ ও ৩২ অনুচ্ছেদে শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার নিশ্চিত করা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দুর্বল তদন্তের কারণে শিশুদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শুধু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে না, বরং বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থাও হারিয়ে ফেলছে।
সংস্থাটির তথ্যমতে, গত কয়েক মাসে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তত ১৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে এবং ধর্ষণের ব্যর্থ চেষ্টার পর নিহত হয়েছে আরও ৩ জন। এছাড়া যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর ২ জন শিশু আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। পল্লবীতে আট বছর বয়সী রামিসা আক্তারের হত্যাকাণ্ডসহ সাম্প্রতিক অন্যান্য ঘটনা দেশের শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আবারও সামনে এনেছে বলে আসক দাবি করে। একই সময়ে অন্তত ৪৬ জন শিশু ধর্ষণচেষ্টার শিকার হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে মানবাধিকার সংস্থাটি জানায়, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা, যৌন নির্যাতন ও শোষণ প্রতিরোধ করতে দায়বদ্ধ। এছাড়া ‘জাতীয় শিশু নীতি ২০১১’ অনুযায়ী শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা একটি রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার। শিশু নির্যাতন ও হত্যার প্রতিটি ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে আসক।