ইরানের সামরিক সক্ষমতা,দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন করছে তেহরান-মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র

Home Page » জাতীয় » ইরানের সামরিক সক্ষমতা,দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন করছে তেহরান-মার্কিন গোয়েন্দা সূত্র
বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬


প্রতীকী ছবি- ইরানের পতাকা  বঙ্গনিউজ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক দ্রুত গতিতে পুনর্গঠন করছে তেহরান—এমন তথ্য জানিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র।

গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এপ্রিলের শুরুতে কার্যকর হওয়া ছয় সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরান আবারও ড্রোন উৎপাদন শুরু করেছে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, লঞ্চার ও অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রগুলো পুনর্নির্মাণের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র জানায়, ইরান প্রাথমিক অনুমানের চেয়ে অনেক দ্রুত তাদের সামরিক কাঠামো পুনরুদ্ধার করছে। একটি সূত্রের মতে, দেশটি মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পেতে পারে।

গোয়েন্দা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা হারানো সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করছে।

পুনর্গঠনের গতি বাড়ার পেছনে রাশিয়া ও চীনের সহায়তার ভূমিকা থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্রগুলো জানিয়েছে, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে, যদিও বেইজিং এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকেও সরাসরি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিএনএনের পূর্ববর্তী প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন হামলার পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক মিসাইল লঞ্চার অক্ষত ছিল। সাম্প্রতিক মূল্যায়নে এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ লুকানো ও ক্ষতিগ্রস্ত লঞ্চারগুলো যুদ্ধবিরতির সময় উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া হাজার হাজার ড্রোন এখনো কার্যকর অবস্থায় রয়েছে, যা ইরানের মোট ড্রোন সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংস্থার মূল্যায়নে ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে এবং তারা কয়েক বছর পুনর্গঠন করতে পারবে না।

কিন্তু গোয়েন্দা সূত্রগুলোর মূল্যায়ন বলছে, ক্ষতি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল এবং ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই বড় অংশ পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের দ্রুত পুনর্গঠন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও উপকূলীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হুমকি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে অভিযান পরিচালনায় প্রস্তুত রয়েছে, তবে গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করবে না।

বাংলাদেশ সময়: ২১:০৬:১৯ ● ৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ